Logo
শিরোনাম
নির্মান প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়নে টেলিভিশন প্রদান। আবারও সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন ১৪ দফায় নামঞ্জুর মেয়রপ্রার্থী লিপুর পক্ষে ঘাটাইলে অটোরিকশা চালকদের শোডাউন। বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিনের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ। পরিষদের কাজে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুমোদন নেবেন ইউএনও। ঘাটাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিস পরিদর্শনে কাজী আরজু। সন্ধানপুর ইউনিয়নে নবজাতক শিশুদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন সাবেক এমপি মরহুম ডাঃ মতিউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালন রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিস পরিদর্শনে ওবায়দুল হক নাসির।

মেডিসিনমুক্ত আনারস চাষে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন মধুপুরের চাষী নজরুল।

জাহাঙ্গীর আলম,টাঙ্গাইলঃ টাঙ্গাইলে মেডিসিনমুক্ত আনারস চাষে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন মধুপুর হলুদিয়া গ্রামের আনারস চাষি নজরুল ইসলাম, আউসনারা গ্রামের আনারস চাষি কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আউসনারা গ্রামের হুরমুজ, আবুল কাশেম, সহ স্থানীয় আনারস চাষিরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন হয়েছে এবং আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার আশা করছেন এ চাষিরা। মধুপুর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে জানা যায়, মধুপুর উপজেলায় এ বছর ৬ হাজার ২’শত হেক্টর জমিতে আনারস চাষাবাদ হয়েছে।



মেডিসিনমুক্ত আনারস চাষে বিপ্লবের উদ্যোক্তা মধুপুর হলুদিয়া গ্রামের আনারস চাষি নজরুল ইসলামের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় বিশ বিঘা জমিতে ছিয়াত্তর হাজার জলডুগি এবং পঁচিশ হাজার ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষ করেছে। এ পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে পাঁচ লাখ টাকা। এবছর ৫-৬ বিঘা জমির আনারস পাকা শুরু হয়েছে জুন-জুলাই পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবে। বাকি জমির আনারস চাষে আরো খরচ হবে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। বাকি আনারস ২০২২ সালে বিক্রি করতে পারবে। যদি ভালো ফলন হয় এবং আনারসের ভালো দাম থাকে তা হলে ১ বছরে বিশ-পঁচিশ লাখ টাকার আনারস বিক্রি করতে পারবেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, এখনো ৮০% এর বেশি চাষি আনারসে মেডিসিন ব্যবহার করে ফলটির জন্ম,বৃদ্ধি এবং পরিপক্কতা নিয়ন্ত্রণ করছেন।
আমার জানা মতে মেডিসিন অতিপ্রয়োগের প্রত্যেকটা স্তরই অবৈজ্ঞানিক। ফোর্স ফ্লাওয়ারিং হরমোনের ৩০ গুণ পর্যন্ত অধিক প্রয়োগ করে আনারস নির্ধারিত সময়ের পূর্বে গাছে ফলানো, ইচ্ছে মতো বড় করা হচ্ছে এবং কৃষকের ইচ্ছায় পরিপক্ক হওয়ার আগেই পাকানো হচ্ছে।পুরো আনারসের বায়োলজিক্যাল ক্যালেন্ডার পরিবর্তন হওয়ার পথে। লক্ষ্য করুন, ২৫ বছর আগে শীতকালে এক বিঘার আনারস খেতে ৫ -১০ টা আনারস পাওয়া যেত। শীতকালে হাটে আমি কখনোই আনারস বিক্রি করতে দেখিনি। এখন এক বিঘা জমিতে প্রায় হাজারখানেক আনারস শুধু শীতকালেই ফলে এবং সারা বছরই হাটে আনারস বিক্রি হয়।আনারস শীত কালের ফসল নয়!
অধিক পরিমাণে হরমোন মেডিসিন প্রয়োগের ফলে মা গাছ গুলো তার নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে এটা তার বড় প্রমাণ।

যেহেতু এর সাথে কৃষকের আর্থিক লাভের সম্পর্ক রয়েছে,সেহেতু তাদেরকে মুখে বললেই তারা শুনবে তেমন নয়। অর্গানিক আনারস চাষ করলে আর্থিক ভাবে কি লাভ হবে তা যদি কৃষক কে বুঝাতে পারি তবে তারা নিরাপদ পদ্ধতির দিকে ফেরত আসবেন।

আমরা যারা পড়াশোনা করেছি তারা যদি নিরাপদ চাষকে উৎসাহ দিই যে,এটা আর্থিক এবং স্বাস্থ্যগত ভাবে লাভজনক তবে সবাই ক্ষতিকর চাষ পদ্ধতি থেকে অবশ্যই ফেরত আসবেন। প্রমাণ দিচ্ছি, যদি দেখা যায় কোন কৃষক ব্যতিক্রম একটা ফসল চাষ করে অনেক লাভবান হচ্ছেন তাহলে সবাই সে ফসলে ঝাপিয়ে পড়েন। অর্গানিক আনারস চাষের এমন অগ্রগামী গনের একজন আমি নজরুল এজন‌্য আ‌মি নি‌জে‌কে সাধুবাদ জানাই।

আউসনারা গ্রামের আনারস চাষি কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জুয়েল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আউসনারা গ্রামের হুরমুজ, আবুল কাশেম, কৃষক হেলাল উদ্দিন সহ স্থানীয় আনারস চাষিরা জানান, ২০১৪ সাল থেকে মধুপুরের মেডিসিনমুক্ত আনারস চাষ শুরু করে। মেডিসিনমুক্ত আনারস করতে গিয়ে শুরুতেই মোটা অঙ্কের টাকা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এতে তারা হতাশ হলেও ভেঙে পড়েননি, কারণ বিষমুক্ত আনারসের চাহিদা ধীরে ধীরে বেড়ে চলেছে। আনারসের অতীত ঐতিহ্য আবার ফিরে আসবে বলে আশা করছেন মধুপুরে মেডিসিনমুক্ত আনারস চাষের সাথে সংশ্লিষ্টরা।