Logo
শিরোনাম
নির্মান প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়নে টেলিভিশন প্রদান। আবারও সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন ১৪ দফায় নামঞ্জুর মেয়রপ্রার্থী লিপুর পক্ষে ঘাটাইলে অটোরিকশা চালকদের শোডাউন। বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিনের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ। পরিষদের কাজে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুমোদন নেবেন ইউএনও। ঘাটাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিস পরিদর্শনে কাজী আরজু। সন্ধানপুর ইউনিয়নে নবজাতক শিশুদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরন সাবেক এমপি মরহুম ডাঃ মতিউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকী পালন রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিস পরিদর্শনে ওবায়দুল হক নাসির।

ঘাটাইলে ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর আতঙ্ক।

কাজী আরজু টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে হঠাৎ করেই তার ঘাটাইলে আগমন ঘটে। তিনি উপজেলার একাশি গ্রামের কাজী জব্বারের ছেলে। তার চার সন্তানের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তার বাবা দরিদ্র কৃষক থাকলেও তিনি এখন বিপুল অর্থবিত্তের মালিক। কাজী আরজু নিজেকে শিল্পপতি পরিচয় দেন। জানা যায় একসময় তিনি গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিক হিসেবে চাকুরি করতেন। চাকুরি ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় অগ্রসর হন। পরে তিনি বাংলাদেশ থেকে প্রচুর স্টুডেন্টকে অবৈধভাবে ইউরোপ বিভিন্ন দেশে পাঠান। এভাবেই তার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। অর্থবিত্তের মালিক হন নামে বেনামে গড়ে তোলেন অবৈধ সম্পদ। কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না থাকলেও ২০১৯ সালে উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে এলাকায় অপরিচিত মুখ কাজী আরজু টাকা পয়সা খরচ করেই ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন।



নির্বাচিত হওয়ার পরপরই খোলস বদলে নিজেকে ক্ষমতাবান ভাবতে শুরু করেন। নিজেকে পরিচয় দেন আওয়ামীলীগের লোক হিসাবে। তিনি ইতিমধ্যেই নিজ গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছে এক আতঙ্কের নামে পরিনত হয়ে উঠেছেন। মাদক ব্যবসা, মুক্তিযোদ্ধার উপর নির্যাতন, জমি দখল, এম্বোলেন্স চালককে মারধর, ব্যবসায়ীদের পিটিয়ে আহত করা সহ তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর রয়েছে অসংখ্য অভিযোগ। রয়েছে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তোলা, নিজ বাসভবনে টর্চারসেল তৈরি করার অভিযোগ।
সরেজমিনে তার গ্রামে গেলে এলাকাবাসী জানায়, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু এলাকায় প্রবেশ করার সময় গাড়ী বহর নিয়ে প্রবেশ করেন। বহরের সামনে পিছনে ২৫ থেকে ৩০টি মোটর সাইকেলের নিয়ে তার লালিত পালিত বখাটে গ্রুপ। বহরটি যাওয়ার সময় কোন যানবাহন সাইট দিতে দেরি হলে তাকে মারধর করে থাকেন তিনি এবং তার গ্রুপের লোকজন। গত ২১শে মার্চ কোলাহা গ্রামে এক এম্বুলেন্স চালককে মারধরের স্বীকার হন। অভিযোগ রয়েছে এম্বুলেন্সে থাকা রোগী নিয়ে যাওয়ার পথে তার গাড়ি বহরে সাইট দিতে দেরি হওয়ায় এম্বুলেন্স চালককে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে সেথান থেকে পালিয়ে যান কাজী আরজু।
ইতি মধ্যেই তিনি নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছেন। কেউ তার কোনো অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তার নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বিভিন্নভাবে লাঞ্জিত করে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে বেংরোয়া জামে মসজিদ মাহফিলে তাকে প্রধান অতিথি না করায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা মাহফিল বন্ধ করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয় কোলাহা পূর্বপাড়া জামে মসজিদে নির্বাচনের আগে ১ লক্ষ টাকার প্রতিশ্রুতি দেন । টাকা চাইতে গেলে মসজিদের সভাপতিকে গালমন্দ করেন।
এ দিকে সম্প্রতি ঘাটাইল একাশী গ্রামে রুবেল মিয়া নামের এক ডিস ব্যবসায়ীকে তার বাড়িতে স্থাপিত টর্চারসেলে নিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে। রুবেলের পরিবার অভিযোগ রুবেল মিয়া একাশী গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে ডিস ব্যবসায় করে আসছে। ঘটনার কয়েকদিন আগে ডিস ব্যবসায়ী রুবেল কে ৪০টি টিভি সংযোগ ছেড়ে দিতে বলেন আরজু। এতে রুবেল সংযোগ ছেড়ে দিতে অস্বীকার করলে আরজু তার বাস ভবনে নিজস্ব টর্চারসেলে নিয়ে তাকে পিটিয়ে আহত করেন। পরে খবর পেয়ে রুবেলের স্ত্রী আহত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে হাসপাতাল কতৃপক্ষ।
এ বিষয়ে রুবেল মিয়া বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান আরজু আমাকে তার সন্ত্রাসী লোকজন দিয়ে তার বাসভবনে ডেকে পাঠান এবং তিনি বলেন ডিস সংযোগ ছেড়ে দিতে। আমি ছেড়ে দিতে অস্বীকার করলে তিনি আমাকে রড দিয়ে আঘাত করেন। পরে আর সন্ত্রাসী বাহিনীরা আমাকে পিটায়। আমি এখন কানে শুনতে পাইনা। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
শুধু এখানেই শেষ নয়, মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ঘর ভাঙচুর এবং চাদা দাবীর অভিযোগ রয়েছে ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর বিরুদ্ধে। জানা যায়, ভূয়াপুর উপজেলায় গোবিন্দাসী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান একরাম উদ্দিন তারা মৃধার কাছে চাঁদা দাবী করেন ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু। চাদা না দেওয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনী মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি ভাঙচুর করেন।
এবিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ্দিন তারা মৃধা বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে আমার কাছ থেকে চাঁদা দাবী করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তারা আমার গৌরাঙ্গী নীজ গ্রামের বাড়ি ঘরে হামলা চালায় ও ভাঙচুর করে। এর কোনো বিচার এখন পর্যন্ত পাইনি। এই জন্য কি আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম ? আমি ঘাটাইল থানায় অভিযোগ দিতে গেলেও আমার অভিযোগ গ্রহণ করেনি। মুক্তিযোদ্ধা হয়ে কি আমরা বিচার পাবো না ? তাহলে কি দেশ স্বাধীন করে ভুল করেছিলাম ? এই ঘটনায় ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর বিরুদ্ধে বিচারের দাবীতে ভূয়াপুরে মানববন্ধন করে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।
কাজী আরজুর বিষয়ে ঘাটাইল উপজেলার দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহবায়ক সবদুল হোসেন বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজু এলাকাতে ত্রাসের রাজ্য গড়ে তুলেছেন। তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে প্রান নাশের হুমকি প্রদান করেন। তিনি বলেন ( কাজী আরজু), আমি ভাইস চেয়ারম্যান, আমার কথাই শেষ কথা।
এ বিষয়ে ছাত্র লীগের নেতা জলিল সরকার বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর কর্মকান্ডে আমরা অতিষ্ট। তিনি অন্যায়ভাবে মানুষকে নির্যাতন করে থাকেন। কেউ তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মামলার ভয় দেখান।
কদমতলী হাসান পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আরশেদ আলী বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান এলাকায় প্রবেশ করার সময় ২৫-৩০টি মটরসাইকেল বহর নিয়ে প্রবেশ করেন। এই বহরে এমনভাবে হরন বাজিয়ে যান এতে আসে পাশের মানুষজন আতংকিত হয়ে পরে। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে যাচ্ছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।
দিঘলকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে নেতা নাজমুল হোসেন খান বলেন, আমরা যাকে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি বানালাম, সেই এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্ক হয়ে দাড়িয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি একজন ভালো মানুষ। ভালো কাজ করে উপরের দিকে অগ্রসর হচ্ছি। কতিপয় মানুষ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। তিনি আরো বলেন, আমার পরিবারের কেউ জন প্রতিনিধি হয় নাই। আমি জনপ্রতিনিধি হয়েছি, আমি নতুন রাজনীতিতে এসেছি আমার ভিতরে একটা উত্তেজনা কাজ করে। তাই আমি বহর নিয়ে চলাফেরা করতে পছন্দ করি।
মুক্তিযোদ্ধার বিষয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি তার কাছ থেকে কোনো চাদা দাবী করিনি। তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন। ডিস ব্যবসায়ী রুবেলের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি ব্যবসায়ীক অংশীদারদের মধ্যে সমস্যা। আমাার কাছে এসেছিলো প্রতিকারের জন্য। আমার বাসায় একটি অঘটন ঘটেছে এ জন্য আমি দূ:খিত।
এবিষয়ে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক মো: শহিদুল ইসলাম লেবু বলেন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর বিরুদ্ধে এলাকায় নানান অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময় মানুষের সাথে ক্ষমতার অব্যবহার করে থাকেন। এলাকায় মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ী নিয়ে চলাফেরা করেন। যার কারণে ঐ এলাকায় মাদকের সংখ্যা বেড়ে গিয়েছে। তিনি ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামীলীগের কেউ নন। হঠাত করেই উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন। কথায় কথায় মানুষকে টাকার চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি। এসব অবৈধ টাকা কোথা থেকে এসেছে তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত। তার কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ট। এর ফলে পরিষদের ভাবমূর্তী নষ্ট হচ্ছে। ভাইস চেয়ারম্যান কাজী আরজুর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

(সাপ্তাহিক জাহাজমারা, সময়ের দর্পণ)/-