Logo
শিরোনাম
ভিপি রুবেলের পক্ষে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত -একাত্তরের কন্ঠ ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী এস.এম রকিবুল হাসান (মানিক)। বেলায়েত হোসেনকে কাউন্সিলর হিসেবে দেখতে চান এলাকাবাসী। নির্মান প্রকৌশল শ্রমিক ইউনিয়নে টেলিভিশন প্রদান। আবারও সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন ১৪ দফায় নামঞ্জুর মেয়রপ্রার্থী লিপুর পক্ষে ঘাটাইলে অটোরিকশা চালকদের শোডাউন। বানারীপাড়ায় অধ্যক্ষ নিজাম উদ্দিনের জানাজায় হাজারো মানুষের ঢল দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে আইনি নোটিশ। পরিষদের কাজে উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুমোদন নেবেন ইউএনও। ঘাটাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির অফিস পরিদর্শনে কাজী আরজু।

ঘাটাইলে মাটি ও ইটবোঝাই ট্রাক পরিবহনে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ছে গ্রামীণ সড়ক।

যত্রতত্র ইটভাটা গড়ে ওঠায় টাঙ্গাইলে ঘাটাইল উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলো বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মাটি ও ইটবোঝাই করে ট্রাক পরিবহনের কারণে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ছে উপজেলার অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত সড়কগুলো প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে।
উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের গুণগ্রাম থেকে সন্ধানপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটারের একটি পাকা গ্রামীণ সড়ক রয়েছে। এই সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ১০টি ইটভাটা। গ্রামীণ পাকা সড়কে দশ টনের বেশি ওজনের মালবাহী ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকলেও এসব ভাটায় চল্লিশ টনের ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন মাটি, কয়লা ও ইট পরিবহন করা হয়।
ফলে নির্মাণের মাত্র এক বছরের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
কালিদাসপাড়া, কর্ণা, গলগণ্ডা, ডৌজানি, তারাগঞ্জ গ্রামের পাশ থেকে প্রতিদিন ভারি ট্রাকবোঝাই করে ইটভাটাগুলোতে মাটি নেয়া হচ্ছে। দুই বছর আগে সংস্কারকৃত সড়কটি বর্তমানে ট্রাকের চাকায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সড়কটি শুস্ক মৌসুমে ধূলোময় ও বর্ষার মৌসুমে কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে। এই এলাকায় স্থাপিত একটি উচ্চ বিদ্যালয় তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। ভারি ট্রাক পরিবহনের কারণে এসব সড়কের পুরাতন সেতুগুলোও মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ধলাপাড়া-পেচারআটা-রসুলপুর সড়কের পাশে রয়েছে ১৫টি ইটভাটা। এ সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত করুণ। সড়কটি দেড় বছর আগে সংস্কার করা হয়েছে। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে ঘুরে উপজেলার প্রায় সকল গ্রামীণ সড়কের একই অবস্থা দেখা গেছে।
উপজেলার পেচারআটা এলাকার ভ্যানচালক রমজান আলী বলেন, পাকা সড়ক কইরা লাভ কী? ইটভাটার মাটি ও ইট টানার ট্রাকে সড়কটা শেষ কইরা দিছে। ধুলায় আর ভাঙ্গার কারণে ভ্যান চালানো যায় না।
উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন ধলা বলেন, বিকল্প কোনো সড়ক না থাকার কারণে বাধ্য হয়ে গ্রামীন সড়কগুলো ব্যবহার করা হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, তিন ক্যাটাগরিতে ঘাটাইল উপজেলায় প্রায় ৩ শত কিলোমিটার পাকা সড়ক আছে। যার মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮৫ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ৮০ কিলোমিটার, ক-শ্রেণির গ্রামীণ সড়ক ১০৪ কিলোমিটার, খ-শ্রেণির গ্রামীণ সড়ক ২০ কিলোমিটার।
এছাড়া কাঁচা রাস্তা আছে এক হাজার ২৫০ কিলোমিটার। গত বন্যায় ৩৪টি সড়কের ১৫০ কিলোমিটার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার ক্ষত সারতে না সারতেই মাটি ও ইটবাহী গাড়ির চাপে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে সড়কগুলো। একই সাথে ক্ষতি হচ্ছে গ্রামীণ কাঁচা সড়কেরও। ইটভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ প্রতিবাদ করেও কোনো সুফল পাচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী ওয়ালিয়ার রহমান বলেন, কেউ কারও কথা শোনে না। সড়কে স্টিলের ব্যারিকেড তৈরি করে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করা হলে গ্রামীণ সড়ক টেকানো যাবে না।
(নজরুল ইসলাম,ঘাটাইল ডট কম; সময়ের দর্পণ)/-